আন্তর্জাতিক এনজিও ফোরাম বাংলাদেশ ১৩ মার্চ ২০১৯ তারিখে গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক কেবিনেট কমিটির চেয়ারপার্সন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয়মন্রী একেএম মোজাম্মেল হক-এর বক্তব্য গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছে। যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এনজিওরা রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে আনা ত্রাণ সাহায্যের প্রায় ৭৫ ভাগই নিজেদের স্বার্থে খরচ করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ছয় মাসে হোটেলের বিলবাবদ ব্যয় করা হয়েছে। একই সাথে পারডিয়েম, বাসস্থান এবংযাতায়াতখাতে বিশাল ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন এনজিও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে মর্মেওঅভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশে কাজ করা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ফোরাম (আইএনজিও ফোরাম) মাননীয় মন্ত্রীর সাথে সংহতি প্রকাশ করে এইসবঅভিযোগ জনসমক্ষে নিয়ে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। আমরা মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের উদ্বেগের কারণ বুঝতে পারছি। কেননা কর্মসূচির পরিচালন ব্যয় যৌক্তিক এবং সীমিত থাকা বাঞ্চনীয়।
আমরা মাননীয় মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, বিভিন্ন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং দেশীয়এনজিও সরকারের সাথে একাত্ম হয়ে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ওপুনর্বাসন কর্মসূচিতে কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাহায্য কর্মসূচিতে সকলের মিশন এক হলেও বিভিন্নধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, পরিচালন পদ্ধতি এবং বাজেট পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন।
আমরা মাননীয় মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আশ্বস্ত করছি যে, রোহিঙ্গা কর্মসূচিতে কর্মরত সকল আন্তর্জাতিক এনজিও আর্থিক নিয়ম-শৃঙ্খলা ও বিধি-বিধান সরকার অনুমোদিত পরিচালন মানদণ্ড অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রতিপালন করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর সুনির্দিষ্ট অনুমোদনের প্রেক্ষিতেই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে বিস্তারিত আর্থিক বিবরণ এবং খাতওয়ারী বাজেট বিশ্লেষণ করেই সুনির্দিষ্ট প্রকল্প অনুমোদন করেন।
আমরা আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো বাংলাদেশ সরকারের সকল বিধি-বিধান কঠোরভাবে প্রতিপালন করে বিভিন্নপ্রকারের পরিচালন ব্যয় যেমন, পারডিয়েম, বাসস্থান এবং যাতায়াত খরচ মিটিয়ে থাকি। আমরা প্রত্যেকে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত এবং পদ্ধতিগতভাবে এনজিওব্যুরোর কাছে রিপোর্ট করে থাকি। আমাদের প্রত্যেকের কর্মসূচিস্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং আমাদের আর্থিক লেনদেন তালিকাভুক্ত অডিট ফার্ম দ্বারা অডিট করা হয়।
বাংলাদেশ আইএনজিও ফোরাম মাননীয় মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আশ্বস্ত করছে যে আন্তর্জাতিক এনজিওরা এসকল অভিযোগের পাত্র হতে পারে না। আমরা এই জাতীয় অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যে কোন তদন্তেসম্পূর্ণ উন্মুক্ত থেকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করার জন্য নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এছাড়া আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানাতে চাই যে স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের কর্মসূচি এবং পরিচালন সম্পর্কে জননিরীক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবো।